হার্ট অ্যাটাক: নীরব ঘাতক সম্পর্কে জানুন
হার্ট অ্যাটাক: নীরব ঘাতক সম্পর্কে জানুন
বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাক একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য সমস্যা। বয়স বাড়লেই যে এই রোগ হবে, এমন নয়—অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, ধূমপান, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে কম বয়সীদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সচেতন হওয়া খুবই জরুরি।
হার্ট অ্যাটাক কী?
হার্টে রক্ত পৌঁছে দেয় যে ধমনীগুলো, সেগুলোর মধ্যে কোনো একটিতে ব্লক তৈরি হলে হার্টের পেশীতে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। এর ফলেই হার্ট অ্যাটাক হয়। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ
বুকের মাঝখানে চাপ বা তীব্র ব্যথা
ব্যথা বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া
শ্বাসকষ্ট
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
বমি বমি ভাব বা বমি
মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
হঠাৎ অস্বস্তি বা অজানা ভয়
অনেক সময় মহিলাদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো একটু ভিন্ন হতে পারে, যেমন অতিরিক্ত ক্লান্তি, বদহজম বা হালকা বুকব্যথা।
কেন হার্ট অ্যাটাক হয়?
হার্ট অ্যাটাকের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে—
উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
ধূমপান ও মদ্যপান
অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার
স্থূলতা
ব্যায়ামের অভাব
অতিরিক্ত মানসিক চাপ
পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস
হার্ট অ্যাটাক হলে কী করবেন?
রোগীকে দ্রুত বসান বা শুইয়ে দিন
টাইট জামাকাপড় ঢিলা করুন
দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান
দেরি না করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেবেন না
কীভাবে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করবেন?
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন
ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করুন
কম তেল ও কম লবণযুক্ত খাবার খান
নিয়মিত ব্লাড প্রেসার ও সুগার পরীক্ষা করুন
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক শান্তি বজায় রাখুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উপসংহার
হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ আসে, কিন্তু সচেতনতা ও সঠিক জীবনযাপন অনেকটাই ঝুঁকি কমাতে পারে। বুকব্যথা বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গকে কখনও অবহেলা করবেন না। সময়মতো চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে।




