মুখে বড়দিনের কেক! কতটা ঝুঁকি বাড়বে হৃদরোগের?
বছরের শেষে বড়দিন মানেই আলো, সাজ, গান আর এক টুকরো কেক। চারপাশে হাসি–আনন্দ, টেবিল জুড়ে প্লাম কেক, চকলেট কেক, ক্রিম কেক—সব মিলিয়ে বড়দিন যেন মিষ্টির উৎসব। কিন্তু এই উৎসবের মুডে কি আমরা একটু ভুলে যাই আমাদের হার্টের কথাও? চলুন খুব সহজ ভাষায় বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক।
বড়দিনের কেক সাধারণ কেকের থেকেও একটু বেশি “রিচ” হয়। এতে থাকে বেশি বাটার, চিনি, ড্রাই ফ্রুট, কখনও অ্যালকোহল মেশানো ফ্লেভার। স্বাদে দারুণ হলেও এই উপকরণগুলো হার্টের জন্য একটু ভারী। বেশি চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরকে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। এই অভ্যাস বারবার হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে, আর ডায়াবেটিস মানেই হার্টের বাড়তি বিপদ।
বড়দিনের কেকের আরেকটা দিক হলো ফ্যাট। বাটার ও ক্রিমে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। এই কোলেস্টেরল ধমনীতে জমে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে তৈরি হয় হার্ট ব্লকেজ। অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এই সমস্যা বাড়তে থাকে—এটাই সবচেয়ে ভয়ের।
উৎসবের সময় আরেকটা সমস্যা হয়—“আজ তো বড়দিন” ভেবে পরপর কয়েক দিন কেক, মিষ্টি আর ভারী খাবার খাওয়া। এর সঙ্গে যদি হাঁটাচলা কমে যায়, তাহলে ওজন বাড়ে খুব দ্রুত। পেটের মেদ বাড়া মানেই উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল আর হার্টের ঝুঁকি একসঙ্গে বেড়ে যাওয়া। তাহলে কি বড়দিনে কেক খাওয়াই যাবে না? একথা একদমই ভাববেন না।
বড়দিন আনন্দের দিন, নিষেধের তালিকা বানানোর দিন নয়। হার্ট ভালো রাখতে দরকার একটু বুদ্ধি। বড় স্লাইস নয়, ছোট একটা টুকরো। প্রতিদিন নয়, একদিন। সঙ্গে কোল্ড ড্রিংক নয়, জল বা গরম চা। সুযোগ থাকলে বাড়িতে বানানো কম চিনি, কম বাটার কেক বা ফল মেশানো কেক বেছে নিন। তাই এই বড়দিনে হার্টের যত্ন নিয়েই কেকে কামড় বসানো হোক। মাথায় রাখবেন, আপনার সুস্থ হার্টই সবচেয়ে সুন্দর ক্রিসমাস গিফট।





