জিম করতে গিয়েই জীবনাবসান! আসল কারণটা কি জানেন?
ফিটনেস ফ্রিক অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লা,সিদ্ধান্ত বীর সূর্যবংশী থেকে শুরু করে ক্রিকেটার প্রিয়জিৎ ঘোষ- গত কয়েক বছরে অকালে চলে গেলেন তারকাসহ বহু তরতাজা প্রাণ। হিসেব করলে দেখা যাবে জীবনের মধ্যগগনেও পৌঁছয় নি তারা। এদিকে সময় মতো খাওয়া, জিমে নিয়ম করে শরীরচর্চা- এসবই চলত তাদের। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই অকাল মৃত্যু যখন আমজনতার মনে চিন্তা বাড়াতে শুরু করল, ঠিক তখনই দেশের নামজাদা চিকিৎসকের পক্ষ থেকে এক বিশেষ রোগ নিয়ে সতর্কবাণী প্রকাশ্যে এল।
শুধু তাই নয়, এই রোগের সঙ্গে, জিমে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত শরীরচর্চারও যে একটা সম্পর্ক রয়েছে তাও স্পষ্ট করে দিলেন চিকিৎসকরা। আর এই বিশেষ রোগটি হল হাইপারট্রফিক কার্ডিও মায়োপ্যাথি (HCM)। এবার স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে হতে পারে, নিয়মিত শরীরচর্চা তো হার্ট ভালো রাখতে খুবই দরকারি, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? কিংবা জিমে গিয়ে এক্সারসাইজ করলেই কী ভয়ঙ্কর কোন বিপদ ঘটতে পারে? এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা দরকার, ফিট থাকা ভালো। কিন্তু, কোনও কিছুই অত্যধিক ভালো নয়।
একটা কথা সকলকেই মাথায় রাখতে হবে, যতটা নিজের শরীর নিতে পারে ততটাই জিম করা উচিত। সাধারণত এক্সারসাইজ করলে হার্টকে বেশি পাম্প করতে হয় । বেশি পাম্প করার সময় দেখা যায় যে, হুট করে হার্ট ফেলিওর হয়ে যায় এবং মৃত্যু হয়। জন্ম থেকেই অনেকের হাইপারট্রপিক অবস্ট্রাকটিভ কার্ডিও মায়োপ্যাথি (HOCM) থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় সবসময় এই রোগ ডিটেক্ট করা যায় না। ফলে চিকিৎসা করাও সম্ভব হয় না। তাই যারা জিম করতে যাচ্ছেন, তাদের উচিত আগে ECG করে নেওয়া। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে তবেই জিম করা উচিত।
আসলে, হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথির (Hypertrophic cardiomyopathy বা HCM) ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডের পেশী অস্বাভাবিকভাবে মোটা হয়ে যায়। অনেকেই নিজের শরীর সম্পর্কে ভাল করে না জেনে, ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে জিমে যোগ দিয়ে লাগাতার শারীরিক কসরত করতে থাকেন। তারফলেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। মনে রাখতে হবে, নতুন করে হার্টকে যে চ্যালেঞ্জটা দেওয়া হচ্ছে, সেটা হার্ট আদৌ নিতে পারছে তো! হার্ট কিন্তু চাপ নিতে না পারলে সিগন্যাল দেয়, আর সেটা না বুঝলেই সর্বনাশ।





