কাদের HEART অপারেশন করতেই হবে?
হার্টের রিপোর্ট হাতে নিয়ে হাসপাতালের করিডরে বসে ছিলেন এক ব্যক্তি। চিকিৎসক বলেছিলেন, "অপারেশন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করা দরকার।" কিন্তু বাড়িতে ফিরেই শুরু হলো পরামর্শের বন্যা—"এত তাড়াহুড়ো কিসের?", "আরও দু'জন ডাক্তার দেখাও", "হার্টের অপারেশন খুব ঝুঁকিপূর্ণ", "ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে!" কয়েক সপ্তাহ পর অবস্থার অবনতি হলো। তখন আর প্রশ্ন ছিল না—শুধু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছিল।
এমন ঘটনা কেবল সিনেমার গল্প নয়। বাস্তবেও অনেক মানুষ সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। আবার ঠিক উল্টো দিকেও ভুল হয়—অনেকে মনে করেন, হার্টে ব্লক মানেই অপারেশন। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই দুই ধারণাই ভুল। হার্ট অপারেশন কোনও "রুটিন" সিদ্ধান্ত নয়, আবার অকারণে আতঙ্কিত হওয়ারও বিষয় নয়। এটি নির্ভর করে রোগের ধরন, ব্লকের অবস্থান, হার্ট কতটা রক্ত পাম্প করছে, রোগীর বয়স, ডায়াবেটিস, কিডনির অবস্থা এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর।
যদি হার্টের প্রধান বা একাধিক করোনারি ধমনীতে গুরুতর ব্লক থাকে, বারবার বুকে ব্যথা হয়, ওষুধ বা স্টেন্টে কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলে, অথবা হার্টের ভালভ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে অস্ত্রোপচারই অনেক সময় সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে। একইভাবে জন্মগত হার্টের জটিল ত্রুটি বা আর্টারিতে জটিল সমস্যা থাকলেও অপারেশন জীবন বাঁচাতে পারে। অন্যদিকে, এমনও বহু রোগী আছেন, যাঁদের ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নিয়মিত ফলো-আপ বা স্টেন্টই যথেষ্ট। তাই একজনের চিকিৎসা অন্যজনের ক্ষেত্রে কখনওই প্রযোজ্য নয়।
সবচেয়ে বড় ভুলটি হয় তখনই, যখন আমরা চিকিৎসকের চেয়ে বেশি ভরসা করি আত্মীয়ের অভিজ্ঞতা, প্রতিবেশীর পরামর্শ বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে। হার্টের চিকিৎসায় "শুনেছি" নয়, "পরীক্ষায় প্রমাণিত" সিদ্ধান্তই জীবন বাঁচায়।
হার্ট অপারেশন কোনও ভয়ের নাম নয়। ভয়ের বিষয় হলো—যখন অপারেশন দরকার, তখন শুধু ভয় বা ভুল তথ্যের কারণে সেটি পিছিয়ে দেওয়া। কারণ, হার্ট দ্বিতীয়বার সতর্ক করার সুযোগ সব সময় দেয় না।





