হার্ট সার্জারি নিয়ে প্রচলিত ধারণা: কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ?

হার্টের সমস্যার কথা শুনলেই ভয়! আর যখন চিকিৎসক বলেন “হার্ট সার্জারি করতে হবে”, তখন অনেক রোগী ও পরিবারের মনে একের পর এক প্রশ্ন আসে—“অপারেশন করলে কি জীবন ঝুঁকিতে পড়বে?”, “বয়স বেশি হলে কি সার্জারি করা সম্ভব?”, “একবার Bypass করলেই কি আর কখনও সমস্যা হবে না?”। এসব প্রশ্নের পাশাপাশি হার্ট সার্জারি নিয়ে রয়েছে বহু ভ্রান্ত ধারণা।
১: হার্টে ব্লক মানেই Bypass Surgery
হার্টে ব্লক ধরা পড়লেই যে Bypass করতে হবে, এমন নয়। ব্লকের সংখ্যা, অবস্থান, কতটা গুরুতর, রোগীর বয়স, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যা এবং হার্টের সামগ্রিক অবস্থার উপর চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। কারও ক্ষেত্রে ওষুধ, কারও ক্ষেত্রে Angioplasty বা Stent, আবার কারও ক্ষেত্রে Bypass Surgery প্রয়োজন হতে পারে।
২: একবার Bypass করলেই সারাজীবনের জন্য নিশ্চিন্ত
Bypass Surgery ব্লক হওয়া রক্তনালীর রক্তপ্রবাহের বিকল্প পথ তৈরি করে। কিন্তু এরপরও নতুন করে রক্তনালীতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অপারেশনের পরও নিয়মিত ওষুধ, স্বাস্থ্যকর খাবার, শরীরচর্চা, ধূমপান বন্ধ এবং ডায়াবেটিস-রক্তচাপ-কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩: বয়স বেশি হলে Heart Surgery করা যায় না
শুধু বয়স দেখেই সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, অন্যান্য রোগ, হার্টের কার্যক্ষমতা এবং অপারেশনের সম্ভাব্য ঝুঁকি—সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই “বয়স হয়েছে, অপারেশন করা যাবে না”—এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়।
৪: Heart Surgery মানেই সারাজীবন দুর্বল থাকতে হবে
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক রোগী সার্জারির পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Cardiac Rehabilitation, নিয়মিত হাঁটা ও প্রয়োজনীয় ব্যায়াম রোগীর সেরে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৫: হার্ট সার্জারি যতটা সম্ভব পিছিয়ে দেওয়া ভালো
অপারেশনের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও শুধু ভয় বা ভুল ধারণার কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তবে প্রত্যেক রোগীর পরিস্থিতি আলাদা। তাই কখন সার্জারি প্রয়োজন, কখন অপেক্ষা করা যায়—সেটা চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ঠিক হওয়া উচিত।
ভয় নয়, সঠিক তথ্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু “হার্ট সার্জারি মানেই ভয়ঙ্কর কিছু”—এই ধারণা ঠিক নয়। একইভাবে সার্জারি নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও ঠিক নয়। কোন রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা উপযুক্ত, তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরীক্ষা, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ।










