বাবা-মা হার্টের রোগী? প্রতি বছর আপনিও করুন এই ৩ পরীক্ষা

বাবার হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে।মায়ের কয়েক বছর আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। আপনি ভাবছেন—“ওঁদের হয়েছে, আমার তো কিছুই হয়নি!” সমস্যাটা এখানেই। হার্টের অসুখ অনেক সময় দরজায় কড়া নেড়ে আসে না। বিশেষ করে পরিবারের কাছের কারও হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে নিজের ঝুঁকির বিষয়টাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
আপনার বাবা-মায়ের হার্টের সমস্যা আছে মানেই আপনারও হার্টের রোগ হবে—এমন নয়। কিন্তু পারিবারিক ইতিহাস আপনার হৃদ্রোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত কিছু পরীক্ষা করা যেতে পারে।
1. লিপিড প্রোফাইল—কোলেস্টেরল কেমন? “আমি তো রোগা, আমার কোলেস্টেরল হবে কেন?”এই ধারণাটা ভুল হতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনও উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। বিশেষ করে LDL কোলেস্টেরল বেশি থাকলে রক্তনালিতে plaque জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শুধু ওজন দেখে নয়—রক্ত পরীক্ষাতেও নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন।
2. Blood Pressure—প্রেসার কি সত্যিই স্বাভাবিক? প্রেসার বাড়লেও অনেকের শরীরে কোনও স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। আজ 120/80 এসেছে বলে আগামীকালও একই থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, ডায়াবেটিসসহ নানা বিষয়ের ওপর রক্তচাপের ঝুঁকি নির্ভর করে।তাই প্রেসার মাপুন, রেকর্ড রাখুন, প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
3. ECG—হার্টবিট চলছে কেমন? ECG হার্টের কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তবে একটি স্বাভাবিক ECG মানেই “হার্টে কোনও সমস্যা নেই”—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আপনার উপসর্গ ও ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনে Echo, TMT, Holter বা অন্য পরীক্ষা পরামর্শ দিতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—সবার জন্য প্রতি বছর একই ৩টি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। আপনার বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, উপসর্গ এবং অন্যান্য ঝুঁকি দেখে চিকিৎসক ঠিক করবেন কোন পরীক্ষা কখন প্রয়োজন। আর একটা কথা—শুধু পরীক্ষা করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। ধূমপান এড়ানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ডায়াবেটিস-কোলেস্টেরল-প্রেসার নিয়ন্ত্রণও হার্টের যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।









